65 বার প্রদর্শিত
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (2,022 পয়েন্ট)  

2 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (1,071 পয়েন্ট)  
শবে বরাত পালন করা জায়েয নাকি বিদয়াত তা নিয়ে আসলে অনেক বড় ব্যাখ্যা আছে যা এত ছোট জায়গায় সম্পুর্নতি তুলে ধরা সম্ভব না শবে বরাত” শব্দের অর্থ ভাগ্যের রাত বা বিমুক্তির রাত।“শবে বরাত” ফার্সি শব্দ যার আরবি “লাইলাতুল বরাত”।“শবে বরাত” বলতে আরবি ৮ম মাস শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতকে বুঝায়। “শবে বরাতের” উৎপত্তি মুলত দুটি আয়াত এবং একটি হাদিসের উপর ভিত্তি করে।আয়াত দুটি হলঃ اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِىۡ لَيۡلَةٍ مُّبٰرَكَةٍ‌ اِنَّا كُنَّا مُنۡذِرِيۡنفِيۡهَا يُفۡرَقُ كُلُّ اَمۡرٍ حَكِيۡمٍۙ অর্থঃ َআমি এটি এক বরকত ও কল্যাণময় রাতে নাযিল করেছি৷ কারণ, আমি মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছিলাম৷ এটা ছিল সেই রাত যে রাতে আমার নির্দেশে প্রতিটি বিষয়ে বিজ্ঞোচিত ফায়সালা দেয়া হয়ে থাকে৷(সুরা দুখান ৪৪ঃ ৩-৪) আর যেটিকে হাদিস বলা হয় সেটি আসলে কোন হাদিস নয়।সকল সাহাবি এবং তাবীঈয়ের মতের বিপরীতে একটি মাত্র মত এসেছে।তাও কোন সাহাবি থেকে নয়।মতটি বিখ্যাত সাহাবি ইবনু আব্বাস(রাঃ)-এর খাদেম ইকরিমাহের।তিনি বলেন এই আয়াতে “বরকতময় রাত” বলতে “মধ্য শাবানের” রাতকে বুঝান হয়েছে।বক্তব্যটি এসেছে “আন-নাদর ইবনু ইসমাইল”-এর থেকে।যে কিনা কুফার একজন গল্পকার ছিলেন।তিনি বাক্তিগত ভাবে সৎ হলেও তার বর্ণনার ভুলের কারণে তিনি দুর্বল বলে আখ্যা পেয়েছেন মুহাদ্দিসগণের থেকে। এসব মুহাদ্দিসগণের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী,ইয়াহিয়া বিন ময়িন ও ছিলেন।তিনি ইকরিমাহের বক্তব্যকে ভুল করে ইবনু আব্বাসের(রাঃ) বক্তব্য বলেছিলেন। এবার মূল আলোচনায় আশা যাক।উপরোক্ত আয়াতে কিছু একটা নাজিলের কথা বলা হয়েছে।আর সেটি যে কোরআন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।কারণ তারপরে বলা আছে যে আল্লাহ ওই জিনিসটি নাজিল করেছিলেন মানুষকে সতর্ক করতে।সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে যে ওই নাজিল হওয়া জিনিস নিসসন্দেহে কোরআন।আর আল্লাহ বলেনঃ شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِىۡٓ اُنۡزِلَ فِيۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰى وَالۡفُرۡقَان‌ِۚ فَمَنۡ شَهِدَ مِنۡكُمُ অর্থঃ রমযানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে , যা মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য –সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়।
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (6,695 পয়েন্ট)  
“শব” শব্দটা ফার্সি। যার অর্থ হল-রাত। আর বরাআত এটি আরবী শব্দ। মূলত হল- ﺑﺮﺍﺀﺕ যার অর্থ হল “মুক্তি” তথা জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাত হল শবে বারাআত। বরাত বলাটা ভুল। কারণ শবে বরাত ( ﺑﺮﺍﺕ ) মানে হল বিয়ের রাত। সুতরাং আমরা বলব-শবে বারাআত( ﺷﺐ ﺑﺮﺍﺀﺕ ) শবে বারাআতকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান”( ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ) তথা শাবানের অর্ধ মাসের রাত। কেউ কেউ “শবে বরাআত” নামে হাদিসে শব্দ না থাকায় এ রাতকে অস্বিকার করার মত বোকামী সূলভ যুক্তি দিয়ে থাকেন। তাদেরকে আমি বলি-আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া আবশ্যক বলি কুরআন হাদিসে বর্ণিত নির্দেশের কারণে। কিন্তু কুরআন হাদিসের কোথাও কি নামাযের কথা আছে? নামায শব্দটা কুরআন হাদিসের মাঝে খুঁজতে যাওয়া যেমন বোকামী তেমন শবে বারাআত শব্দটা কুরআন হাদিসে খুঁজতে যাওয়াও তেমন বোকামী। আমরা যাকে নামায বলি সেই অর্থবোধক কুরআন হাদিসের উদৃত শব্দ “সালাত”ই হল নামায। তেমনি আমরা যাকে “শবে বারাআত” বলি তথা শাবানের পনের তারিখের রাত এই অর্থবোধক শব্দ হাদিসে পাওয়া গেলে তা’ই হবে শবে বারাআত। আর এই অর্থবোধক হাদিসে বর্ণিত শব্দ হল “লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান”। সুতরাং তাই হল শবে বারাআত। হাদিসে শবে বারাআত কুরআনে শবে বারাআতের কোন উল্লেখ নাই। কুরআনে কেবল “লাইলাতুল কদর” তথা “শবে কদর” এর কথা উল্লেখ আছে। পবিত্র কুরআনের পঁচিশ নাম্বার পাড়ার সূরায়ে দুখানের ২ ও ৩ নং আয়াতে বর্ণিত মুবারক রজনী দ্বারা লাইলাতুল কদর তথা শবে কদর উদ্দেশ্য। শবে বারাআত নয়। এটাই বিশুদ্ধ বলেছেন গ্রহণযোগ্য মুফাসসিরীনে কেরাম। যার পক্ষে যুক্তিও শক্তিশালী। বিস্তারিত জানতে দেখুন- ১. আদ দুররুল মানসুর-৭/৪০১-৪০৭ ২. তাফসীরে কাশশাফ-৪/২৭২ ৩. তাফসীরে ইবনে কাসীর-৭/২৪৬ ৪. তাফসীরে বাগাভী-৭/২২৭-২২৮ বিভিন্ন হাদিসে শবে বারাআতের বর্ণনা এসেছে। নিম্নে একটি হাদিস উদৃত করে এ ব্যাপারে আহলে হাদিসদের ইমাম শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী রহঃ তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ “আস সিলসিলাতুস সাহিহাহ আল মুজাল্লাদাতুল কামিলাহ” গ্রন্থে ৩ নং খন্ডে ১১৪৪ নং অধ্যায়ে ২১৮ নাম্বার পৃষ্ঠায় শবে বরাআত সম্পর্কে হাদিস এনে যে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তার বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হল-(অতি পন্ডিত আহলে হাদিসরা চাইলে আমি মূল আরবীটাও তাদের দিতে পারি, এখানে পরিসর বড় হয়ে যাবে বলে তা উদৃত করলামনা।) হাদিস-“মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের নিকট আবির্ভূত হন, তারপর সকল সৃষ্টিকে মাফ করে দেন মুশরিক ও ঝগড়াকারী ছাড়া। আলবানী তার সিলসিলাতুস সাহিহাহর ৩ নং খন্ডের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় বলেন। “এই হাদিসটি সহীহ” এটি সাহাবাদের এক জামাত বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সূত্রে যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করেছে। তাদের মাঝে রয়েছেন # মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ # আবু সা’লাবা রাঃ # আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ # আবু মুসা আশয়ারী রাঃ # আবু হুরায়রা রাঃ # আবু বকর সিদ্দীক রাঃ # আউফ বিন মালিক রাঃ # আয়েশা রাঃ প্রমুখ সাহাবাগণ। উপরে বর্ণিত সবক’টি বর্ণনাকারীর হাদিস তিনি তার কিতাবে আনার মাধ্যমে সুদীর্ঘ আলোচনার পর শেষে তিনি বলেন- ﻭ ﺟﻤﻠﺔ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺃﻥ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺑﻤﺠﻤﻮﻉ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻄﺮﻕ ﺻﺤﻴﺢ ﺑﻼ ﺭﻳﺐ ﻭ ﺍﻟﺼﺤﺔ ﺗﺜﺒﺖ ﺑﺄﻗﻞ ﻣﻨﻬﺎ ﻋﺪﺩﺍ ﻣﺎ ﺩﺍﻣﺖ ﺳﺎﻟﻤﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻀﻌﻒ ﺍﻟﺸﺪﻳﺪ ﻛﻤﺎ ﻫﻮ ﺍﻟﺸﺄﻥ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ، ﻓﻤﺎ ﻧﻘﻠﻪ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻟﻘﺎﺳﻤﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ” ﺇﺻﻼﺡ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ” ‏( ﺹ 107 ‏) ﻋﻦ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺘﻌﺪﻳﻞ ﻭ ﺍﻟﺘﺠﺮﻳﺢ ﺃﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﻓﻲ ﻓﻀﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ، ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻤﺎ ﻳﻨﺒﻐﻲ ﺍﻻﻋﺘﻤﺎﺩ ﻋﻠﻴﻪ ، ﻭ ﻟﺌﻦ ﻛﺎﻥ ﺃﺣﺪ ﻣﻨﻬﻢ ﺃﻃﻠﻖ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﻓﺈﻧﻤﺎ ﺃﻭﺗﻲ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﺘﺴﺮﻉ ﻭ ﻋﺪﻡ ﻭﺳﻊ ﺍﻟﺠﻬﺪ ﻟﺘﺘﺒﻊ ﺍﻟﻄﺮﻕ ﻋﻠﻰ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻨﺤﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻳﻚ . ﻭ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻫﻮ ﺍﻟﻤﻮﻓﻖ অর্থাৎ সারকথা হল এই যে, নিশ্চয় এই হাদিসটি এই সকল সূত্র পরম্পরা দ্বারা সহীহ, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর সহীহ হওয়া এর থেকে কম সংখ্যক বর্ণনার দ্বারাও প্রমাণিত হয়ে যায়, যতক্ষণ না মারাত্মক কোন দুর্বলতা থেকে বেঁচে যায়, যেমন এই হাদিসটি হয়েছে। আর যা বর্ণিত শায়েখ কাসেমী থেকে তার প্রণিত “ইসলাহুল মাসাজিদ” গ্রন্থের ১০৭ নং পৃষ্ঠায় জারাহ তা’দীল ইমামদের থেকে যে, “শাবানের অর্ধ মাসের রাতের কোন ফযীলত সম্পর্কে কোন হাদিস নেই মর্মে” সেই বক্তব্যের উপর নির্ভর করা যাবেনা। আর যদি কেউ তা মেনে নেয় সে হবে ঝাঁপিয়ে পড়া(ঘারতেড়া) স্বভাবের, আর তার ব্যাক্ষা বিশ্লেষণ ও গবেষণা-উদ্ভাবনের কোন যোগ্যতাই নেই এরকমভাবে যেমন আমি করলাম। আল্লামা শায়েখ আলবানী রহঃ এর বিশ্লেষণ থেকে একথা নির্ধিদ্ধায় আমরা বলতে পারি হাদিস দ্বারা শবে বারাআত প্রমাণিত। এ রাতে করণীয় এ মহামান্বিত রাতে করার মত নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। সবাই কোথাও একত্র হয়ে সম্মিলিত কোন আমলও নেই। তবে যাদের বাসা-বাড়িতে ইবাদতের কোন পরিবেশ নেই তারা মসজিদে এসে একাকি আমল করতে পারে। অন্য রাতের নফল ইবাদতের মত ইবাদত করবে। যেমন-নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, দু’আ ইত্যাদী । এ রাতে বর্জনীয় ১. হালুয়া রুটির মত আনন্দ উল্লাসের আয়োজন। আল্লাহর কাছ থেকে মাফ পেতে হলে তার ইবাদত করতে হবে, খাওয়া দাওয়ার মধ্য দিয়ে ফুর্তি করার মাধ্যমে নয়। ২. আতশবাজি করা, রং ছিটানো। ৩. সম্মিলিত কোন আমলকে এই রাতে আবশ্যকীয় মনে করা সুষ্পষ্ট বিদআত।
আকম আজাদ প্রশ্ন অ্যানসারসের সাথে আছেন বিশেষজ্ঞ হিসাবে। অজানার যেকোনো বিষয়েই জানতে প্রচণ্ড আগ্রহী এবং আত্মবিশ্বাসী। প্রশ্ন ডট কমকে বাছাই করে নিয়েছন জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম হিসেবে। স্বপ্ন দেখেন একজন উদীয়মান বক্তা ও কলম সৈনিক হওয়ার। এই অভিপ্রায়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে সকলের নিকট দোয়াপ্রার্থী।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
01 মে "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন manik prize (196 পয়েন্ট)  
2 টি উত্তর
01 মে "ইসলাম ধর্ম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অনিক আহমেদ (2,022 পয়েন্ট)  

20,349 টি প্রশ্ন

19,168 টি উত্তর

2,654 টি মন্তব্য

1,168 জন সদস্য



প্রশ্ন অ্যানসারস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

...