46 বার প্রদর্শিত
"স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (72 পয়েন্ট)  
সম্পাদিত করেছেন

2 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (737 পয়েন্ট)  
এখান খেকে দেখে নিন
http://genesisblogs.com/health-2/5850
0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
উত্তর প্রদান করেছেন (687 পয়েন্ট)  


সকালে ঘুম থেকে উঠার পর ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চায়ের মধ্যে যে অমৃত স্বাদ থাকে, তার বর্ণনা নতুন করে দেবার কিছু নেই। চায়ের উপকারিতা শুধু সকালের ভাঙা ঘুমের জড়তা কাটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে আছে বহুমুখী গুণ যা আপনাকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সহায়ক। আমাদের যাপিত জীবনে চা ব্যবহার হয় নানাভাবে।

আমাদের অনেকেরই দিন শুরু হয় চায়ের কাপ হাতে। এরপর সারাদিনের কাজ, মিটিং, আড্ডা, মান-অভিমান যাকে সঙ্গী করে তা হলো চা। দু'টি পাতা থেকে একটি কুঁড়ি হতে শুরু করে দুধসাদা কাপে সোনালি লিকারের চায়েই পাওয়া যায় চনমনে চাঙ্গা ভাব। শুধু তাই নয়, চায়ের রয়েছে নানা উপকারিতা। প্রথমেই জেনে নিই এর আদি ইতিহাস। চা হলো সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের ঊষ্ণ পানীয়। চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা হয়। চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। 'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য, যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি। গ্রিকদেবী থিয়ার নামানুসারে এর নাম হয় টি। চীনে 'টি'-এর উচ্চারণ ছিল 'চি'। পরে হয়ে যায় 'চা'। পানির পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহূত পানীয়। এর একধরনের স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ রয়েছে। তাই অনেকেই এটি উপভোগ করে। প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া অনুসারে চাকে পাঁচটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন—কালো চা, সবুজ চা, ইস্টক চা, উলং বা ওলোং চা এবং প্যারাগুয়ে চা। এছাড়া সাদা চা, হলুদ চা, পুয়ের চা-সহ আরও বিভিন্ন ধরনের চা রয়েছে। তবে সর্বাধিক পরিচিত ও ব্যবহূত চা হলো সাদা, সবুজ, উলং এবং কাল চা। প্রায় সবরকম চা-ই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হলেও বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতের কারণে একেক ধরনের চা একেক রকম স্বাদযুক্ত। পুয়ের চা একধরনের গাঁজনোত্তর চা, যা অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয়। কিছু কিছু চায়ে ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থাকে না। ভেষজ চা হলো একধরনের নিষিক্ত পাতা, ফুল, লতা ও উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ যাতে কোনো ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নেই। লাল চা সাধারণত কোরিয়া, চীন ও জাপানে ব্যবহূত হয় অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার রুইবস গাছ থেকে তৈরি হয়। এতেও কোনো ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থাকে না।

চায়ের উপকারিতা শুধু সকালের ভাঙা ঘুমের জড়তা কাটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। চায়ে আছে বহুমুখী গুণ যা আপনাকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সহায়ক। চা খেলে গায়ের রং পরিবর্তন বা কালো হয় এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আবার কেউ কেউ মনে করেন চা খেলে ত্বক খসখসে হয়ে যাবে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, চা খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চামড়ায় কালো ছাপ পড়ে—এর কোনোটিই ঠিক নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চায়ের রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড। যার মধ্যে রয়েছে চমত্কার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কালো এবং সবুজ চা দুটোতেই পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস খাবারের সাথে বেশি পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরে গেলে হূদযন্ত্র অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল বা শাক-সবজিতে যে পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকে তার চেয়ে চায়ে বেশি পাওয়া যায়। চায়ে আছে কিছু ভিটামিন, দুটি খনিজ পদার্থ ও ১৫টিরও বেশি অ্যামাইনো অ্যাসিড। আছে থায়ামিন (ভিটামিন বি) কার্বোহাইড্রেট, মেটাবলিজমের জন্য যা দরকার। চায়ে আছে ভিটামিন-সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া চায়ে আছে ভিটামিন-বি, ফলিক অ্যাসিড প্রভৃতি। আমাদের শরীরে দিনে ২ থেকে ৫ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজের দরকার হয়। পাঁচ থেকে ছয় কাপ চা দুধ ছাড়া পান করলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজের ৪৫ শতাংশ পূরণ হয়। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য প্রয়োজন পটাশিয়ামের। পটাশিয়াম আলস্য কাটায়, ক্লান্তি, অবসাদ প্রভৃতিকে কাটিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে রাখে। প্রতিদিন ৪-৫ কাপ সবুজ চায়ের লিকার শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের তিন-চতুর্থাংশ পূরণ করে। চায়ে সামান্য পরিমাণে জিঙ্ক আছে। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। আবার লেবু দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে চা (লেবু চা)। এ চা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। লেবু সাইট্রাস পরিবারভুক্ত। লেবুতে আছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি আর পটাশিয়াম। আছে আরও কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান। তবে ভিটাসিন সি আর পটাশিয়াম মিলে শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। উপরন্তু লেবুর পটাশিয়াম হূিপণ্ডের কর্মক্ষমতাও বাড়ায়। লেবুর রসের ভিটামিন সি দূর করে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা। মানসিক বিষণ্নতায় শারীরবৃত্তীয় কারণেই ভিটামিন সির ঘাটতি দেখা দেয় দেহে। লেবু চা পানে সেটি পূরণ হয় নিমেষেই। ফলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে মন। লেবু চা দাঁতের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করতে লেবু চা খুব কার্যকর। মুখের গন্ধ রোধেও লেবু চা কার্যকর। আর দাঁতে প্লাক জমার কারণে যে অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ পড়ে, তা সরাতেও লেবু চা সাহায্য করে। ত্বকের ক্ষত পূরণে লেবু চা কার্যকর। লেবু চা পান করলে ত্বকে কোলাজেনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়। ত্বকের পোড়াভাব যেমন দূর করতে পারে লেবু, তেমনি চোখের চারপাশের কালো দাগও মিলিয়ে দিতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
26 অক্টোবর "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md Nayem Khan (46 পয়েন্ট)  
1 উত্তর
04 নভেম্বর "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Gonesh Ray (44 পয়েন্ট)  
1 উত্তর

20,349 টি প্রশ্ন

19,174 টি উত্তর

2,657 টি মন্তব্য

1,170 জন সদস্য



প্রশ্ন অ্যানসারস এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কমিউনিটির এই প্ল্যাটফর্মের সদস্যের মাধ্যমে আপনার প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান পেতে পারেন এবং আপনি অন্য জনের প্রশ্নের উত্তর বা সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন। মূলত এটি বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য একটি প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক কমিউনিটি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।

...